বান্দরবান : চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন স্পট

বান্দরবান : চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন স্পট
অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা বান্দরবান

শহুরে জীবন মানুষের জীবনকে নিরস ও প্রানহীন করে দেয়।আর সেই নিরস জীবনে রস ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন খোলা আকাশ, বিশুদ্ধ বাতাস, পাহাড়,নদী বা সমুদ্র। এই জন্য পার্বত্য অঞ্চলে ঘুরে আসাটা খুবই চমৎকার একটি সিদ্ধান্ত। এইজন্য রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলা।যেখানে রয়েছে প্রচুর পাহাড় পর্বত।

বান্দরবানের মূল পর্যটন অঞ্চল বগা লেক 

বগা লেক বাংলাদেশের সব সবচেয়ে আকর্ষণীয় লেকের মধ্যে অন্যতম। এটি পার্বত্য বান্দরবান জেলার রুমা সদর উপজেলা থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে ১৫ একর জায়গার উপরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। বগালেকের শ্যামল প্রকৃতি,নীল জল এবং বড়বড় পাথর গুলো দর্শনার্থীদের প্রচুর প্রশান্তি দেয়।

বগালেক, বান্দরবান
বগালেকের সৌন্দর্যে আপনি মুগ্ধ না হয়ে পারবেনই না

প্রচলিত আছে বহা লেক ২০০০ বছর আগের এক ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয়।বগা লেক নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রচুর রূপকথার প্রচলন রয়েছে।বগা লেকের আশেপাশে বায়ম,খুমি সহ অনেক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বসবাস।শীতকাল হচ্ছে বগা লেকে ভ্রমণের সবথেকে উৎকৃষ্ট সময়। 

আরও পরুন,সেন্টমার্টিনঃবাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ ও পর্যটন স্পট

কীভাবে বগা লেকে যাবেন

বান্দরবান সদর থেকে “চাঁদের গাড়ি” নামক এক বিশেষ বাহনে করে রুমা উপজেলায় গিয়ে সেখান থেকে আবার আরেকটি চাঁদের গাড়িতে করে আপনার গন্তব্য বগা লেকে যেতে পারবেন অথবা আপনি বাসে করেও যেতে পারেন যার জন্য আপনার জনপ্রতি ৩০০ টাকা খরচ হবে।

তবে সেখানে যাওয়ার সময় স্থানীয় কতৃপক্ষের নিকট আপনার নাম পরিচয় ইস্যু করাতে হবে এবং আপনি বিকাল ৪ টার পরে রুমা সদর থেকে বের হতে পারবেন না।

 

তাজিংডং 

আপনি যদি দেশের সর্বোচ্চ কোনো স্থানে নিজের পদচিহ্ন রেখে আসতে চান তবে তাজিংডং হলো তার মধ্যে অন্যতম একটি পছন্দ। এই পাহাড় রুমা উপজেলার রেকমারি পাংশা ইউনিয়নে অবস্থিত। “তাজিং”  শব্দের অর্থ “মহান” এবং “ডং” শব্দের অর্থ “পাহাড়” পুরো শব্দের অর্থ দাড়ায় মহান পাহাড়। তবে এটি “বিজয়” নামে সর্বাধিক পরিচিত। 

তাজিংডং
ছবিঃhttps://www.travelmate.com.bd/

ভ্রমণ পিপাসুরা শীতকালে এই পর্যটন কেন্দ্রে ভীড় যমান। এই পর্বতের সর্বোচ্চ চূড়া,মেঘের মাঝে লুকোচুরি, আঁকাবাঁকা পথ,পাহাড় পর্বত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ী রাস্তা বন্য জগৎ এবং সেখানকার অধিবাসীদের সাদামাটা জীবন,তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সকলকে বিমোহিত করে।

কিভাবে তাজিংডং ভ্রমণ করবেন

সর্বপ্রথম বান্দরবান সদরে পৌছে সেখান থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে রুমা উপজেলায় যাবেন তবে মাথায় রাখবেন বিকেল ৪ টার পর আপনার রুমা উপজেলা ছাড়ার অনুমতি নেই। সেখান থেকে “চাঁদের গাড়ি” তে করে আপনি বগা লেকের কাছে পৌছাবেন এবং সেখান থেকেই আপনার ট্র্যাকিং শুরু করবেন।

বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির (বুদ্ধা ধাতু জাড়ি)

বলা হয় বোদ্ধ ধর্ম হলো শান্তির ধর্ম।থিরাবাদা বৌদ্ধ দের জন্য বান্দরবান খুবই পবিত্র একটি স্থান। এখানে বুদ্ধা ধাতু জাড়ি রয়েছে যা বাংলাদেশের ২য় সর্বোচ্ছো বৌদ্ধ স্থাপত্য।এই মন্দিরকে স্থানীয় ভাষায় “কিয়াং” বলা হলেও দর্শনার্থীদের মধ্যে এটি “বান্দরবান স্বর্ণ  মন্দির” হিসেবেই বহুল পরিচিত। 

মন্দির একালায় পাহাড়ের উপর ছোট্ট একটি পুকুর রয়েছে যাকে তারা “পরীদের পুকুর” বলে থাকে। সেখানে দাঁড়িয়ে আপনি প্রকৃতিক শ্যামলীমার এবং পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিবছরই একানে নানা ধরনের উৎসব পালন করা হয়।

পবিত্র থিরাবাদা বৌদ্ধ মন্দির বালাঘাটা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে পুলপারা এলাকায় অবস্থিত এবং বুদ্ধা ধাতু জাড়ি বান্দরবান সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।আপনি বান্দরবান সদর থেকে অটোরিকশা বা রিকশায় করে সেখানে যেতে পারবেন। বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির বিকাল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। তবে মন্দির প্রবেশের সময় কঠোরভাবে পোশাকের নিয়ম মানতে হয় আপনি কোন ছোট কাপড় বা জুতো পরে এইখানে প্রবেশ করতে পারবেন না।

নাফাকুম ঝর্ণা 

আপনি যদি একইসাথে উত্তেজনাপূর্ণ এবং  জীবন সংকটময় আনন্দ উপভোগ করেতে চান তবে নাফাকুম ঝর্ণা আপনারই জন্য। এটি একই সাথে বান্দরবানের সব থেকে শক্তিশালী এবং সুন্দর ঝর্ণা। নাফাকুম ঝর্ণাকে আবার রেকমারি ঝর্ণাও বলা হয়।

নাফাকুম ঝর্ণা থানচব উপজেলার রেকমারিতে সাঙ্গু নদীদে গিয়ে মিশেছে। নাফাকুম ঝর্ণা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ নিদর্শন। এই প্রকৃতিক ঝর্ণার প্রবলতা এবং শব্দ সলককে বিমোহিত করে।

সাঙ্গু নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ, এছাড়াও এর মধ্যে থাকা বড় বড় পাথরে যখন নদীর জল ধাক্কা খায় তখন মনোমুগ্ধকর একটি সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়।এই স্থানটি বড় পাথর নামে বহুল পরিচিত। 

কিভাবে নাফাকুম ঝর্ণায় ঘুরতে যাবেন 

সর্বপ্রথম বান্দরবান গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে ৭৯ কিলোমিটার দূরে থানচি উপজেলায় যাবেন যেটা আপনার ৪-৫ ঘন্টা সময় লাগাবে।তবে রেকমারি সেনাবাহিনী ক্যাম্পে আপনার থেকে আপনার সম্পর্কে সকল তথ্য ইস্যু করাতে হবে।তবে রেকমারিতে আপনার সঙ্গে একজন ট্যুর গাইড থাকা আবশ্যক, যা টুর গাইড কমিটি থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর একজন গাইড আপনার সঙ্গে পুরো দিন থাকবে যা তাকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দিতে হতে পারে।

এই পর্বে থানচি থেকে রেকমারি পৌছাতে আপনার থেকে একটি নৌকা ভাড়া করা লাগবে এবং নৌকার সাইজ ও ধারণক্ষমতার উপর ভিত্তি করে সেটার ভাড়া ৪০০০ থেকে ৫০০০ হতে পারে।এই যাত্রায় সাধারণত আপনার ৪ ঘন্টা সময় লাগতে পারে। 

নীলগিরি, থানচি 

যদি আপনি পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘ ছুঁতে চান তবে এই পর্যটন আপনারই জন্য। এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে   ৩৫০০ ফুট উিপরে বান্দরবান জেলার থানচি থানায় অবস্থিত। 

এই স্থানের সৌন্দর্য মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গেই পরিবর্তীত হয়।শীতকালে এটি কুয়াশাচ্ছন্ন, এই সময় পর্যটকরা ক্যাম্পফায়ার জ্বালিয়ে মজা উপভোগ করেন।এছাড়াও একান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য খুবই মনোমুগ্ধকর। 

বান্দরবানের পাহারী রাস্তা
বান্দরবানের পাহারী রাস্তা

সেখান থেকে আপনি “ম্রো” দের গ্রাম দেখতে যেতে পারেন তাদের সাধারণ কিন্তু রঙ্গিন জীবন আপনাকে জীবনের মর্ম বুঝবে এবং আপনার জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করবে।

কিভাবে নীলগরি পৌছাবেন 

বান্দরবান সদর থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরে নিলগিরি অবস্থিত। আপনি ব্যাক্তিগত ভাবে গাড়ি ভাড়া করে কিংবা গণপরিবহনে করে সেখানে যেতে পারবেন। 

কোন সময়ে বান্দরবান ভ্রমণে যাবেন 

প্রথমত বর্ষার শুরুর দিকে বান্দরবানের আবহাওয়া চমৎকার হয়ে উঠে। এই সময় পর্যটক কম থাকে তাই হোটেল বা রিসোর্ট ভালো দামেই ভাড়া পেতে পারেন। তবে বর্ষাকালে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধ্বসের ঘটনা ঘটে যা যাতায়াতের ব্যাঘাত ঘটায়।

তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা বিবেচনায় বান্দরবান ভ্রমণের সেরা সময় হলো শীতকাল। তবে এই সময় হোটেল এবং রিসোর্টের ভাড়াও অতিরিক্ত বেড়ে যায়।

ঘুরে আসুন আমাদের ফেসবুক পেজ থেকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here