“ডালগোনা কফি” এবং এর বিতর্কিত ইতিহাস

ডালগোনা কফি
Photo from Pixabay.com

“ডালগোনা কফি” এবং এর বিতর্কিত ইতিহাস 

ক্যাফেইন জগতে সাড়া জাগানো এই হুইপড কফির সারা বিশ্ব জুড়ে অনেক নাম রয়েছে — তন্মধ্যে ইন্টেরেস্টিং একটি হলো:”চৌ ইউন-ফ্যাট কফি”।

 

ডালগোনা কফি “COVID-19 মহামারির সময়কাল এর অন্যতম  এবং খুবই কমন একটি ড্রিংকিং ট্রেন্ড। খুব সম্ভবত এটি ব্রেড বেকিং এর পর দ্বিতীয়।

ইনস্ট্যান্ট কফি মেকার এবং সামান্য একটু চিনি দিয়ে তৈরি এই হুইপড কফি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশি ভাইরাল একটি রিফ্রেশমেন্ট ড্রিংকিং আইটেম। ইউটিউব এও এটির রেসিপি প্রায় সব চ্যানেলেই পাওয়া যায়। 

ডালগোনা কফি
Photo from Pixabay.com

যদিও বিশ্বব্যাপী এই কফি অনেক বেশি ভাইরাল হয়ে উঠেছে কিন্তু এতটা প্রসার এর ফলে ঐতিহ্যবাহী এই কফি তার নিজস্ব নাম, ইতিহাস ও পরিচয় হারাতে বসেছে। এমনকি এর উৎস সম্পর্কে মানুষ এখন সন্দিহান।

সামাজিক মিডিয়ায় এত এত ভাইরাল ভিডিওর মাঝে ডালগোনা কফির আসল ইতিহাস চাপা পড়ে গেছে। চলুন জেনে নেই এর ইতিহাস।

ডালগোনা কফির সাথে চীনের ম্যাকাও শহরের একটি ক্যাফের  মিল আছে। এটি একটি শিপইয়ার্ড ক্যাফে যার নাম “হো কি ক্যাফে”।

এখানে জাং নামে একজন শেফ বিশেষ ধরনের কফি তৈরি করতো। ক্যাফেটি নির্মাণ করেন জাহাজ নির্মাতা লিওন কাম হো। ক্যাফে টি তৈরি করার পিছনে একটি গল্প আছে।

৯০ এর দশকে কর্মক্ষেত্রের একটি দূর্ঘটনায় তার বাহু বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে প্রাক্তন শিপবিল্ডার লিওন কাম হো অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হন। যদিও পরবর্তীতে তার বাহু আবার সংযুক্ত করা হয়েছিল, তবে তার দুর্বল অবস্থা তাকে বিকল্প পেশায় টেনে নিয়ে যায়।

২০১৩ সালে সিএনএন নিউজ জানিয়েছে যে, তিনি শিপইয়ার্ড এর কর্মীদের জন্য এই ” হো কি ক্যাফে” তৈরি করেছিলেন যেখানে শ্রম-নিবিড় কফি পানীয় তৈরি হতো। অনেকটা এখান থেকেই ডালগোনা কফির উদ্ভব। 

লিওন সিএনএনকে বলেছিলেন যে ২০০০ দশকের গোড়ার দিকে তিনি প্রতি বছর ম্যাকাও গ্র্যান্ড প্রিক্স এ অংশ নেওয়া একজন “বিদেশী দম্পতি” এর কাছ থেকে কফিতে একটি ঘন টেক্সচার কিভাবে আনতে হয় শিখেছিলেন।

তিনি একটি কৌশল আয়ত্ত করেন। কফিতে একটু চিনি গুলিয়ে ক্রমাগত অনেকক্ষণ চামচ দিয়ে মেশাতে থাকলে কফি টা একটু ঘন হয়।

মূল ইতিহাস না জেনেই এই ডালগোনা কফি এত বেশি ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায় যে “400x কফি” নামেও এর রেসিপি এখন আ্যভেইল্যাবল।

কিন্তু অনেকক্ষণ ধরে মেশানোর এই টেকনিক লিওন এর কাছে অনেকটা মুশকিল মনে হয়। তাই প্রায় সেই পুরোনো ধাঁচের কফি তৈরি করতো। 

যদিও লিওন জানতো না যে এই দম্পতিটি কোথা থেকে এসেছেন কিন্তু কফি তৈরির এই কৌশলটি বিশ্বজুড়ে অনেক জায়গায় জনপ্রিয় ছিল। 

বিভিন্ন ব্লগ, পুরানো ইউটিউব ভিডিও এবং ইকোনমিক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, এই ডালগোনা কফি দীর্ঘদিন ধরে ভারত এবং পাকিস্তানে বহু নামে পরিচিত, যার মধ্যে রয়েছে: “ফেটা (পিটানো) কফি,” “ফেন্টি হুই কফি,” ” মিট্টি হুই কফি, ” ইন্ডিয়ান ক্যাপেচিনো”, ইত্যাদি।

যাই বলা হোক না কেন, এদের সবগুলোই ডালগোনা কফির মতোই তৈরি: ইনস্ট্যান্ট কফি এবং চিনি মিশিয়ে ঘন হয়ে ওঠা পর্যন্ত নাড়তে থাকা এবং তারপরে দুধের সাথে পরিবেশন করা।

আমেরিকানরা এতে তেমন আগ্রহী না হলেও একটি বিশাল শতাংশ ইনস্ট্যান্ট কফি পছন্দ করে। ফুড ডাটা অনুসারে, ইনস্ট্যান্ট কফি যে কোনো ব্রিড কফির ৩৪ শতাংশেরও বেশি তৈরি হয়ে থাকে এবং এটির বেশিরভাগ জনপ্রিয়তা এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং পূর্ব ইউরোপে।

কিন্তু হাতে তৈরি কফি পদ্ধতিই সাধারণ কফির তুলনায় আরো বেশি ফ্রেশ। অন্যদিকে ইনস্ট্যান্ট কফি তৈরিতে লাগে এসপ্রেসো মেশিন যা সবার ঘরে নাও থাকতে পারে। এখন  পর্যন্ত এটা নিশ্চিত করে বলা হয় কোরিয়া একমাত্র দেশ যেটি “ডালগোনা কফি” এর ঐতিহ্য বজায় রেখেছে। 

ডালগোনা কফি সম্পূর্ণরূপে একটি ঐতিহ্যবাহী কফি। কোনো রকম মেশিনের ব্যবহার ছাড়াই তৈরি হয় বলে এর স্বাদ ও আলাদা। প্রতিটি জিনিসের নিজস্বতা আছে। তেমনি এই কফিটির ও।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এর সম্পূর্ণ টা নেই। তবে হ্যাঁ, ইনস্ট্যান্ট কফি মেকার এর চাইতে অনেক বেশি সুস্বাদু এই ডালগোনা কফি। 

আরও জেনে নিন এই ব্যাপারে click here

ঘুরে আসুন আমাদের ফেসবুক পেজ থেকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here