জিমে না গিয়ে কিভাবে ওজন কমানো যায়

কিভাবে ওজন কমানো যায়
যোগব্যয়াম করুন

কিছু মানুষের জন্য জিম পুরোপুরি উপযুক্ত, তবে কোন ভাবে ফিট হওয়ার জন্য এটাই আপনার একমাত্র বিকল্প পন্থা নয়। সত্যিকারভাবে, জিম সবার জন্য নয়। জিমে না গিয়ে ফিট থাকতে পারবেন আপনি। আজ আপনাদের যানাব জিমে না গিয়ে কিভাবে ওজন কমানো যায় ।

নিম্নলিখিত ১০ টি উপায় অনুসরন করে আপনি একেবারে জিম ছাড়াই স্লিম হতে পারেন। 

১.ওয়ার্ক আউটের সময়টিকে আনন্দে পরিণত করুন 

গোলাকার বেল্ট এর উপর হেটে সময় ব্যয় করা’টা হয়তো আপনার জন্য আনন্দের সংজ্ঞা হতে পারে না, তবে অনুশীলনের সময়টি’কে বিরক্তিকর হতে হবে না।প্রচুর মজাদার ক্রিয়াকলাপ রয়েছে যা আপনার ফিটনেস উন্নত করবে এবং এতে কোনো রকম বিরক্তি ছাড়াই আপনি নিজেকে যুক্ত রাখতে পারবেন।যদি আপনি কোমড় টোনড করতে চান তবে কোমড়ের চারদিকে বৃহৎ  চক্রের ঘূর্ণনের সঙ্গে নৃত্য করতে পারেন।যদি বাড়ির মধ্যে প্রশিক্ষন নিতে না চান তবে বাইরে যেতে পারেন,দৌড়াতে পারেন, পাহারে বাইক চালিয়ে পারেন।এবং যদি আপনি সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু সন্ধান করে থাকেন তবে ট্রামপোলিন(শারীরিক কসরত প্রদর্শনের জন্য জিমন্যাস্টগন ব্যবহৃত স্প্রিং এরুপর স্থাপিত ক্যানভাসবিশেষ)  ক্লাসে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করুন।অনুশীলনের সাথে দুঃসাহসিকতা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে এবংফিটনেস নিয়ে আপনার লক্ষগুলিকে ঠিক রাখবে । 

ওয়ার্ক আউটের সময়টিকে আনন্দে পরিণত করুন
ওয়ার্ক আউটের সময়টিকে আনন্দে পরিণত করুন

আরও পরুন,গ্রীষ্মকালীন যত্নআত্তি

২.একটি ক্লাবে যোগদান করুন

 আপনি যদি কখনও বিরক্ত হয়ে থাকেন জিম সদস্যতার জন্য টাকা খরচ করে যা খুব কম ই আপনি ব্যবহার করেছেন,তবে ক্লাবে যোগদান করার জন্য এগিয়ে আসতে আপনার সময় লাগতে পারে।এমন অসংখ্য স্পোর্টস ক্লাব রয়েছে যেখানে আপনি যোগদান করতে পারেন।যদি আপনি একটি দলে যোগদানের চিন্তা করে থাকেন তবে আপনি হকি, ফুটবল বা বাস্কেটবল চেষ্টা করতে পারেন। বা যদি আপনি একা ওয়ার্ক আউট পছন্দ করেন তবে আপনি দৌড়,চড়া বা ক্যানো ক্লাবে যোগদানের চেষ্টা করতে পারেন। অনেকগুলো ক্লাব সাধারণত টেস্ট সেশন গুলি বিনামূল্যে করেন যাতে আপনি সরঞ্জাম এবং সদস্য তার জন্য অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে সেটির সেটআপ কেমন তা দেখতে পান।

 কিভাবে ওজন কমানো যায়
আপনার জন্য যেটা সহজ সেটা দিয়ে প্রথমে শুরু করুন

৩.সজাগ/সক্রিয় থাকুন

সক্রিয় হয়ে উঠুন তখনি বা পদক্ষেপও নিন তখনি যখন আপনি মনে করবেন আপনার ফিটনেস উন্নত করার জন্য আপনাকে জিমে যেতে হবে,আপনার জীবনধারার মধ্যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতে হবে। আপনার প্রতিদিনের বেসলাইন শারীরিক ক্রিয়াকলাপ বৃদ্ধি, আপনার ফিটনেসে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার গাড়ীটি আপনার কাজের জায়গা থেকে আরও কিছুটা দূরে পার্ক করুন,টিভিতে বিজ্ঞাপন চলাকালে সিঁড়িতে উঠুন এবং নামুন।বাড়ির চারপাশে নিয়মিত কাজগুলি করুন,লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন এবং যদি আপনি অফিসের কাজ করেন তবে জরুরি বার্তা সহকর্মীর কাছে হেটে গিয়ে প্রদান করুন ইমেল পাঠানোর পরিবর্তে।এই সামান্য পরিবর্তনগুলি আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করতে জিম এর উপর নির্ভর করা ছাড়াই।

৪.বিভিন্নতা/বৈচিত্র্য

যদি আপনি সর্বদা নতুন হেলথচার্ট শুরু করেন এবং তা কিছু সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করে ফেলেন তবে আপনাদ ডায়েট চার্ট এবং ফিটনেস পরিকল্পনাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য কিছু ভিন্ন রকম পন্থা অবলম্বন করতে হবে। বার বার একই ব্যায়াম করা শেষ পর্যন্ত আপনার অগ্রগতি থামিয়ে দিতে পারে এবং একই খাবার প্রতিদিন খেতে হলে অতি উৎসাহি মানুষও বিরক্ত হতে পারে।আপনার রুটিন’টি মিক্স করে প্রতিদিন নতুন নতুন স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারেন এবং নতুন নতুন ব্যয়াম করুন, যেমন পাইলেটস, নাচ, সাঁতার এবং দৌড়ানো। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন এবং আপনি যদি সত্যিই জিম ছাড়া ওজন হারাতে চান তবে আপনার সুবিধা বা আরামদায়ক ছক এর বাইরে যেতে হবে।

৫. কেনাকাটা করা

 কেনাকাটা করেও যে ওজন কমানো যায় এটা শুনে নিশ্চই অবাক হচ্ছেন, অনুমান করা হয় যে একমাত্র কেনাকাটা থেকে মহিলারা গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৪৮,০০০ ক্যালোরি পোড়ায়।যা প্রতি সপ্তাহের ওয়ার্ক আউটে প্রায় ৩৮৫ ক্যালোরি।কয়েক ঘন্টা ধরে ঘুরে বেড়ানো আপনার পায়ের পেশীগুলিকে একটি ভাল অনুশীলন দিতে পারে এবং ভারী শপিং ব্যাগগুলি নিয়ে যাওয়ায় আপনার হাতের অনুশীলনও হয়ে যায়।সুতরাং কেনাকাটা নিয়ে তখন আপনার আর অপরাধী বোধ  কাজ করবেনা-এমন দেখায় যেমন আপনি নিজের ওয়ার্কআউটের অসুবিধা বাড়িয়ে তুলছেন!  তাই ভবিষ্যতে,অনলাইন শপিংয়ের প্রলোভন এড়াতে চেষ্টা করুন এবং এর পরিবর্তে এই নন-জিম ওয়ার্কআউটের সুবিধা অর্জন করতে নিজেরাই দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করুন।

 কিভাবে ওজন কমানো যায়
কেনাকাটা করাও ওজন কমাবার একটা মাধ্যম!

৬.যোগব্যয়াম

এমন একটি অনুশীলনের সন্ধান করছেন কি যা আপনার শরীর কে স্লিম এবং টোন করতে সাহায্য করবে?যোগব্যায়াম হলো যথাযত বিকল্প,যা আপনি শেষ  করতে পারবেন জিমে যাওয়া ছাড়াই।  আপনি যদি যোগব্যয়ামে নতুন হন,তবে একজন যোগ্য নির্দেশক দ্বারা নেওয়া কয়েকটি ক্লাশে যোগদান করা উচিত গ্রহণের পক্ষে উপযুক্ত যাতে আপনার ফর্মটি সঠিক কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেন।যদি একবার আপনি নিজের ক্ষমতার প্রতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে যান তবে আপনি নিজ বাড়িতে বা কোনও বিশেষজ্ঞের যোগা ডিভিডি দিয়ে ঘরে বসে যোগ শিল্পের অনুশীলন করতে পারেন।আপনার নমনীয়তা এবং শক্তি উন্নত করার পাশাপাশি,যোগব্যায়াম চাপের স্তরও হ্রাস করতে পারে এবং আপনার মেজাজও ঠিক করতে পারে।  সেরা ফিটনেস ফলাফলের জন্য সপ্তাহে তিন বা চারবার যোগ অনুশীলনের চেষ্টা করুন

৭.স্কিপিং/লাফালাফি 

বক্সারদের পছন্দের ক্রিয়াকলাপ হলো স্কিপিং,মানে আশেপাশের কিছু ফিট অ্যাথলিটদের মধ্যে কারো।এটি একটি সহজ, সাশ্রয়ী কার্যকর অনুশীলন, যা আপনার দেহের প্রায় প্রতিটি পেশীকে কাজ করায়,এটি একটি কারন যারব্জন্য বলা যায় স্কিপিং ওজন কমানোর জন্য ভালো একটা কাজ।ব্যায়ামের ভিন্নতার মধ্যে যা করতে পারেন তা হলো এক পা, উচ্চ হাঁটু এবং বিভিন্ন তালে লাফানো। আপনার দড়িটি আপনার জন্য সঠিক উচ্চতায় নিশ্চিত করার জন্য, দড়ির কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকুন এবং দড়িটি শক্ত না হওয়া পর্যন্ত হ্যান্ডলগুলি টানুন।হ্যান্ডলগুলি আপনার বুকের সাথে সমান করে রাখা উচিত।

 কিভাবে ওজন কমানো যায়
ওজন কমাবার সবচেয়ে সহজ উপায় লাফালাফি করা।

৮.কম খাবেন

নিয়মিত আরেকটি পন্থা হলো খাদ্যাভাসের পরিবর্তন আনা যা আপনার ওয়েস্টলাইন কমাতে সাহায্য করে জিমে যাওয়া ছাড়াই।সারাদিন ধরে ঘন ঘন খাবার গ্রহণ আপনার বিপাক বাড়াতে এবং আপনাকে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিপূর্ণ রাখতে সহায়তা করতে পারে।একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটিক্সের জার্নালে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিদিন যাদের ছয়টি ছোট খাবার খাওয়া হয়েছিল তাদের চার দিনের চেয়ে কম বার খাওয়া লোকের তুলনায় কম বিএমআই পাওয়া গেছে।বার বার খাওয়া আপনার শরীরকে, পরে ব্যবহারের জন্য চর্বি হিসেবে সঞ্চয় না করে, পেশীর টিস্যুর চেয়ে ফ্যাট পোড়াতে উত্সাহ দেয় এবং আপনার শরীরে এমন শক্তি সরবরাহ করে যা এটি সারা দিনের জন্য ব্যবহার করতে পারে।

৯.সপ্তাহের অবকাশে নিজেকে ট্রিট করুন

পুরো সপ্তাহে অনেকগুলি ডায়েট এবং ফিটনেস পরিকল্পনা বেশ কঠোর হয় এবং আপনার ৯-৫-এর উপরে এই সবগুলো যুক্ত করে, অবাক হওয়ার বিষয় হলো অনেকেই তাদের এই কঠোর পরিশ্রমকে জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়ে সাপ্তাহিক অবকাশ এলেই।পাচ দিন স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বেশি খাওয়ার চেয়ে সাত দিন জুড়ে যুক্তিসঙ্গত স্বাস্থ্যকর খাওয়া ভাল। সুতরাং নিজেকে সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্র সীমাবদ্ধ করার পরিবর্তে নিজেকে সপ্তাহের মধ্যে মাঝে মাঝে ট্রিট করার অনুমতি দিন যেমন, কাজের পরে একটি ছোট গ্লাস ওয়াইন বা সন্ধ্যার কয়েকটি চকোলেট কয়েকটি স্লাইস যাতে আপনি প্রলোভন এড়িয়ে যেতে পারেন।

১০.রাতে ভালোভাবে ঘুমানো

 আপনি যদি জিম ছাড়া ওজন হ্রাস করতে চান, তবে তার গোপন রহস্য হলো আপনার ঘুমের মধ্যে।  যেখানেই সম্ভব,প্রতি রাতে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন কারণ ঘুম আপনার বিপাক এর গতি বাড়িয়ে তুলতে এবং ওজন হ্রাস করতে পারে। ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেসের প্রসিডিংস-এর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে যারা পর্যাপ্ত ঘুমোতে পারেনা তারা ক্ষুধার্ত বোধ করে কারন তাদের দেহের জেগে থাকার জন্য শক্তি প্রয়োজন।ঘুমের অভাব হরমোন ভারসাম্যহীনতাও তৈরি করতে পারে যাতে আপনি ক্ষুধার্ত বোধ করতে পারেন যদিও আপনার খাওয়ার প্রয়াজন পড়েনা।

ঘুরে আসুন আমাদের ফেসবুক পেজ থেকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here